শবাসন যোগশাস্ত্রে বর্ণিত আসন বিশেষ। শবের (মৃতদেহ) ভঙ্গিমায় এই আসন করা হয় শবলে, এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
পদ্ধতি
১. দুই হাত শরীরের দুই পাশে মেলে রেখে সটান চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এই সময় হাতের তালু থাকবে উপরের দিকে এবং একটু বাইরের দিকে হেলানো থাকবে।
২. পা দুটোর মাঝে কিছুটা ফাঁক রাখুন। এই সময় পায়ের পাতা বাইরের দিকে একটু হেলে থাকবে।
৩. সমস্ত শরীরকে শয়ন তলের উপর ছেড়ে দিন।
৪. খুব ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস চালাতে থাকুন। এবার মনকে সমস্ত চিন্তামূক্ত করুন এবং শরীরকে শিথিল করে দিন। তাতে প্রথমে শরীরটাকে ভার মনে হবে। পরে শরীরের উপস্থিতিকে ভুলে যাবার চেষ্টা করতে হবে। ফলে একসময় পুরো শরীরকে হাল্কা মনে হবে। মূলত এই আসনটি সহজ। কারণ এর দৈহিক ভঙ্গিমা অত্যন্ত সহজ। আবার এটি সবচেয়ে কঠিনও বটে। কারণ, মনকে সংযত করে, শরীরকে অগ্রাহ্য করে, চিন্তাশূন্য অবস্থায় অবস্থান করাটা অতটা সহজ ব্যাপার নয়।
মূলত এই আসনটি করা হয়, অন্য আসনের শেষে বিশ্রাম করার জন্য। এক্ষেত্রে একটি আসন যতক্ষণ করবেন, ঠিক ততক্ষণই শবাসন থাকবেন। অন্য আসন ছাড়াও শারীরীক ও মানসিক বিশ্রামের জন্য শুধু শবাসন করতে পারেন।
উপকারিতা
১. উচ্চ-রক্তচাপের রোগীরা এই আসনটি থেকে বিশেষ উপকৃত হবেন।
২. দীর্ঘক্ষণ শারীরীক বা মানসিক পরিশ্রমের পর শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে, এই আসন দ্বারা শারীরীক ও মানসিক শক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
৩. স্নায়বিক দুর্বলতা, অনিদ্রা, অবসাদ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এই আসন অত্যন্ত ফলপ্রসু ফলাফল প্রদান করে থাকে।
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬
শবাসন
পদ্মাসন
পদ্মাসন যোগশাস্ত্রে বর্ণিত আসন বিশেষ। এই আসনে পায়ের বিন্যাস পদ্মফুলের পাপড়ির মতো বিকশিত অবস্থায় স্থাপিত হয় বলে এর নামকরণ করা হয়েছে পদ্মাসন (পদ্ম + আসন)। এই আসনের কিছুটা পরিবর্তন করে বা অন্যান্য আসনের সাথে যুক্ত করে, এর বিভিন্ন প্রকরণের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুইটি শ্রেণী বিবেচনায় যে সকল পদ্মাসন পাওয়া যায়, সেগুলো হলো—
বর্ধিত পদ্মাসন ও মিশ্র আসন : অধমুখ পদ্মাসন, অর্ধবদ্ধ-পদ্মাসন, উত্থিত পদ্মাসন, ঊর্ধ্বমুখ পদ্মাসন, করণ্ডাসন,
গর্বাসন, পদ্ম-ভুজপীড়াসন, তোলাসন, পরিবৃত্ত পদ্মাসন (বদ্ধ-পদ্মাসন), পর্বতাসন স্বস্তিকাসন।অন্য আসনের সাথে যুক্ত পদ্মাসন : অর্ধবদ্ধপদ্ম-পশ্চিমোত্তানাসন, অর্ধবদ্ধপদ্ম-পশ্চিমোত্তানাসন, অর্ধবদ্ধপদ্ম-ময়ূরাসন, ঊর্ধ্ব-পদ্মশীর্ষাসন, পদ্ম-ময়ূরাসন, পিণ্ডাসন।
পদ্ধতি
১. প্রথমে দুই পা লম্বা করে সামনের দিকে ছড়িয়ে দিয়ে কোন সমতল স্থানে বসুন।
২. এবার ডান পা টেনে এনে বাম পায়ের উপর এমনভাবে স্থাপন করুন, যেনো ডান পায়ের পাতা বাম উরুর কুচকি বরাবর স্থাপিত হয়। এবার বাম পা ভাঁজ করে ডান উরুর উপরে তুলে আনুন।
৩. এবার মেরুদণ্ড সোজা করে দুটো হাত সোজা করে উভয় হাঁটুর পাশে রাখুন। পায়ের পাতা আলগা করে দিন। একই সাথে হাতের আঙুলগুলো আলগা করে দিন।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এইভাবে ৩০ সেকেণ্ড স্থির থাকুন। তারপর পা বদল করে আসনটি আবার করুন। এরপর আসনটি শেষ করে ১ মিনিট শবাসনে বিশ্রাম নিন।
৫. প্রাথমিক পর্যায়ে এই আসনে থাকাটা কষ্টকর মনে হলে সময়সীমা কমিয়ে দিতে পারেন। আবার অভ্যস্থ হয়ে গেলে, আসন সময় ৬০ সেকেণ্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারেন।
উপকারিতা
১. হাটু, কোমরে বাত থাকলে নিরাময় হয়।
২. পায়ের ও মেরুদণ্ডের আড়ষ্টতা দূর হয়।
৩. স্মৃতি শক্তি ও মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়।
৪. অনিদ্রাজনিত অসুবিধা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬
সাধন তত্ত্ব -৬
ঘরে আর অঙ্গনে প্রভেদ নেই, ঘরের মধ্যেই অঙ্গন। অর্ধ রাত্রিতে চোরে কানের অলঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেল। শ্বশুর ঘুমিয়ে পড়ল আর বধূ জেগে রইল। চোরে যখন কানের অলঙ্কার নিয়েই গেল, তখন কার কাছে গিয়ে আর চাইবে ? দিনের বেলায় বধূ কাক দেখে ভয় পায়, অথচ রাত্রি হলেই সে কামরূপ যায়। কুক্কুরীপাদ এমন চর্যাপদ গাইলেন, যা এক কোটি মানুষের মধ্যে হয় তো একজন ই বুঝতেপারবেন।
সাধারণ ভাবে কবিতাটিকে বিশ্লেষণ করলে মনে হয় –“এক পরপুরুষে আসক্ত বধূ, দিনের বেলায় এমন ভাব দেখায় যে কাকের ডাকেও ভয় পায়, অথচ রাত হলেই সে কামরূপ যায় অর্থাৎ কামস্পৃহা চরিতার্থ করে। বধূটি মধ্য রাত্রে শ্বশুরের নিদ্রার সুযোগে ঘরের বাইরে এসে পরপুরুষের সঙ্গে সম্ভোগ ক্রিয়া করছে। তার দুর্বলতার সুযোগে চোরের মত স্বভাবের পুরুষ তার যৌবনের সঙ্গে সঙ্গে তার কানের অলঙ্কার ও হরণ করেছে। বধূ এখন কার কাছে কানের অলঙ্কার চাইবে ?
বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য গণ মানব শরীরের ষটচক্র স্থিত অখিল পদ্ম কে “মহাসুখ কমল" রূপে ও কুন্দস্থানে সুষুম্না নাড়ীর মুখদেশে মূলাধার চক্র কে “বজ্রমণিরূপ আসন” রূপে কল্পনা করেন। তাদের মতে গভীর রাত্রে ইন্দ্রিয়াদির সুষুপ্ত অবস্থায় কুম্ভক সমাধি দ্বারা দেহের প্রকৃতি দোষ খণ্ডন করে, নির্বিকল্প সমাধিতে কুলকুণ্ডলিনী কে জাগরিত করে অর্থাৎ মহাসুখ কমল কে বজ্রমণিরূপ আসনে স্থাপন করে বোধি চিত্তকে নির্বাণ মার্গে চালিত করলে মহাসুখসঙ্গম হয় বা সাধনায় সিদ্ধিলাভের আনন্দ উপলব্ধি হয়।
এই তত্ত্বজ্ঞানের আলোকে এবং পদকর্তার ইঙ্গিত অনুসরণ করে চর্যাপদের প্রতিটিছত্র কে বিশ্লেষণ করলে চর্যাপদটির এই রপ ভাবগত অর্থ পরিস্ফুট হয়ঃ
“ মাদী কাছিমকে দোহন করে দুধ ভাঁড়ে ধরে রাখা যাচ্ছে না ” - ‘মহাসুখ কমল’ কে জাগ্রত করে বজ্রমণি রূপ আসনে ধরে রাখা যাচ্ছে না অর্থাৎ ইড়া ও পিঙ্গলা নাড়ী কে বশীভূত করে মনের দ্বৈত ভাব দূর করে জ্ঞানের আধার মন কে নির্বাণের পথে চালিত করা যাচ্ছে না, ফলে স্বাভাবিক নির্মল আনন্দ লাভ সহজ হচ্ছে না।
“গাছের তেঁতুল কুমীরে খায়” - মানব দেহকে যদি গাছ বলে কল্পনা করা হয়, তবে তেঁতুল রূপী অম্ল ফল হলো তার অন্তরের অবদমিত বিকৃত বাসনা। তেঁতুল কে কুম্ভীরে খায় অর্থে ইঙ্গিত করা হয়েছে কুম্ভক সমাধি র সাহায্যে মনের বিকৃত বাসনা কে নিবৃত্ত করা যায়।
“ঘরে আর অঙ্গনে প্রভেদ নেই, ঘরের মধ্যেই অঙ্গন” - দেহ যদি মনের ঘর হয়, তবে তার অঙ্গনে অর্থাৎ মনের মধ্যেই মহাসুখরূপ অঙ্গনে নির্বাণ লাভ সম্ভব হয় যদি দেহ ও মন এক হয়ে যায়।
“অর্ধ রাত্রিতে চোরে কানের অলঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেল” - অর্ধ রাত্রিতে ইন্দ্রিয় গুলি সুষুপ্ত অবস্থায় থাকে, সেই সময় প্রজ্ঞা বা জ্ঞানের অভিষেকের সময়। কানেট বা কানের অলঙ্কার হলো এক জাগতিক বস্তু র প্রতীক যার প্রতি মানুষের মোহ জন্মে। চুরি করা অর্থে ভাবের ঘরে চুরি করা। মধ্য রাত্রে ইন্দ্রিয় গুলি যখন সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তখন কুম্ভক সমাধির সহায়তায় মন প্রজ্ঞার দ্বারা ভাবের ঘরে চুরি করে মনের প্রকৃতি দোষ অর্থাৎ পার্থিব বস্তুর প্রতি মোহ কে হরণ করে।
“শ্বশুর ঘুমিয়ে পড়ল আর বধূ জেগে রইল” - এই ইঙ্গিতের দ্বারা বোঝানো হয়েছে শ্বাসবায়ু যখন ঘুমিয়ে পড়ে অর্থাৎ স্থির থাকে তখন পরিশুদ্ধ প্রকৃতি রূপিণী আত্মা জেগে থাকে।
“দিনের বেলায় বধূ কাক দেখে ভয় পায়, অথচ রাত্রি হলেই সে কামরূপ যায়” - কাক প্রকৃতির আবর্জনা খেয়ে জীবন ধারণ করে , তাই কাক বস্তু জগতের ভয়াবহ পরিণতির প্রতীক। কামরূপ অর্থে বোঝায় মহাসুখ সঙ্গম বা নির্বাণ লাভের মহা আনন্দ। দিনের বেলা যখন সকল ইন্দ্রিয় সজাগ অবস্থায় থাকে তখন পরিশুদ্ধ আত্মা বস্তু জগতের ভয়াবহ পরিণতি দেখে ভয় পায়, অথচ গভীর রাত্রে ইন্দ্রিয়গুলি যখন সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তখন পরিশুদ্ধ আত্মা নির্বিকল্প সমাধিতে কুলকুণ্ডলিনীকে জাগরিত করে চিত্তকে নির্বাণ মার্গে চালিত করলে মহাসুখসঙ্গম হয় বা সাধনায় সিদ্ধিলাভের আনন্দ উপলব্ধি হয়।
"কুক্কুরীপাদ এমন চর্যাপদ গাইলেন, যা এক কোটি মানুষের মধ্যে হয় তো একজন ই বুঝতে পারবেন” - অবশেষে কুক্কুরীপাদ সংশয় প্রকাশ করেছেন, তিনি যে চর্যাপদ গাইলেন, তা এক কোটি মানুষের মধ্যে একজন ও বুঝতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে।
আজ বিশ্বের জ্ঞান ভাণ্ডার যখন আমাদের হাতের মুঠোয়, তখন রাশি রাশি পুস্তকপড়েও যখন চর্যা পদের ভাবগত অর্থ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছি, সেই নিরিখে খ্রীষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যের জন্ম লগ্নে রচিত এই চর্যাপদ প্রসঙ্গে করা উক্তি টি মোটেই অতিশয়োক্তি নয়।
*********************************
সাধন তত্ত্ব -৫
“মানুষের দেহ বৃক্ষের পাঁচ টি ডাল “- মানুষের শরীর কে যদি একটা জীবন্ত গাছের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তবে চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক এই পাঁচটি ইন্দ্রিয় দেহ বৃক্ষের পাঁচটি শাখা স্বরূপ, যা মানুষের জীবন কে নিয়ন্ত্রণ করে।
“চঞ্চল চিত্তে কাল প্রবেশ করে” - ইন্দ্রিয় গুলি মানুষ কে ভোগময় জীবনের প্রতি আকৃষ্ট করে। মানুষ যত ভোগ করে তত ভোগের স্পৃহা বাড়ে। ভোগ বিলাসে অভ্যস্ত মানুষ ভোগের ব্যাঘাত ঘটলেই অসহিষ্ণু হয়ে পড়ে। তখন মন অশান্ত হওয়ার ফলে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ফলে, অনিয়মিত ও বিশৃঙ্খল জীবন যাপনের দরুণ শরীরে কাল রূপী ব্যাধির আবির্ভাব ঘটে।
“মনকে দৃঢ় করে মহাসুখ পাও” - মনকে যত দৃঢ়তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, মন তত শান্ত হয়। অশান্ত মন কখনই ঈশ্বর সাধনার উপযোগী হয় না। এ জন্য যোগী গণ ঈশ্বর সাধনার অঙ্গ হিসাবে নানা যোগ ব্যায়াম, প্রাণায়াম প্রভৃতির সহায়তায় চিত্ত সংযম করেন। কৃচ্ছ সাধনে মন যত সফল হয়,ভবিষ্যতে ঠিক সেই অনুপাতে সুখ বৃদ্ধি ঘটে।
“গুরু কে জিজ্ঞাসা করে সব জেনে নাও” - নির্বাণ লাভের জন্য যে প্রজ্ঞা ও উচ্চভাব মার্গে বিচরণের উপযুক্ত মানসিক দৃঢ়তা ও দূরদৃষ্টির প্রয়োজন হয়, তা একমাত্র ধর্ম সাধকেরাই অর্জন করতে পারেন। সে জন্য সাধন পথে অগ্রসর হতে গেলে সতত গুরু সঙ্গ প্রয়োজন । গুরুদেব জ্ঞানাঞ্জন শলাকার ছোঁয়ায় শিষ্যের জ্ঞান চক্ষুর উন্মীলন ঘটালে তবেই শিষ্য সাধনার উপযুক্ত হন। গুরুর কাছ থেকে মুক্তির উপায় জেনে নিলে সাধন পথের বাধা বিঘ্ন গুলিকে সহজেই অতিক্রম করা যায়।
“সুখে বা দুঃখেতে মরণ যখন নিশ্চিত, তখন সব সময়ে তপস্যা করে কি হবে ?” - মানুষ মরণশীল। জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর হাত থেকে কারও রক্ষা নেই। বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে সর্ব প্রকার বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে মানব জীবনের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাণ লাভ করতে পারলে সর্বপ্রকার বন্ধন থেকে মুক্তি ঘটে এবং পুনর্জন্ম হয় না। কিন্তু বোধিলাভ ছাড়া নির্বাণ সম্ভব নয়। উপাসনার মাধ্যমে উদ্ভাসিত আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও পরম জ্ঞানকেই বোধি বলা হয়। তাই মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তপস্যার মাধ্যমে বোধি লাভ ও বোধি লাভে প্রাপ্ত জ্ঞানের সহায়তায় নির্বাণলাভের প্রয়োজনেই তপস্যা ।
“এই ছন্দের বন্ধন এবং ইন্দ্রিয়ের পারিপাট্য ছেড়ে শূণ্য পাখায় ভর করে তার কাছে যাও “ – মুক্ত পক্ষ পাখীর মত শূন্য মার্গ অবলম্বন করলে অর্থাৎ জাঁকজমক বা ইন্দ্রিয়ের পারিপাট্য সমূহের অকারণ ভার পরিত্যাগ করলে মন মুক্ত হয়, এবং মুক্ত মন মুক্তির সহায়ক হয়। মুক্তি লাভ করলে আত্মা বুদ্ধে বিলীন হয়।
“লুই বলে আমি শ্বাস-প্রশ্বাসের পিড়ায় বসে ধ্যানে সব দেখেছি ” - লুইপাদ নিজেই ছিলেন একজন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য। বৌদ্ধ ধর্মের সাধন তত্ত্ব তার জানা ছিল। শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ বা কুম্ভক সমাধি দ্বারা দেহের প্রকৃতি দোষ খণ্ডন করে, নির্বিকল্প সমাধিতে বোধি চিত্তকে নির্বাণ মার্গে চালিত করলে মহাসুখ সঙ্গম হয় বা সাধনায় সিদ্ধিলাভের আনন্দ উপলব্ধি হয়, এই কথাই পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বজ্রযানী ও সহজযানী পন্থী সিদ্ধাচার্য গণ সন্ধ্যা ভাষায় অতি সহজ কথায় চর্যাপদগুলি রচনা করলেও বাস্তবে তা ছিল দ্বৈত অর্থবহ, দুরূহ এবং সাধন তত্ত্বের গভীর ভাবব্যঞ্জনায় পরিপূর্ণ।।
মায়াপ্রপঞ্চ ও দ্বৈতবোধের উর্ধ্বে স্থিত যে ‘বোধিচিত্ত’, তাকে সকল প্রকার দ্বৈতবোধ পরিহার করে সাধন যোগে অবধূতিকা মার্গের পথে ‘মহাসুখকমল ’-এ স্থিত করে যদি সাধক মহাসুখ লাভ করেন, তবে মায়াময় পৃথিবী সম্পর্কে জ্ঞানরহিত হন। কুক্কুরীপাদ নামক এক বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য এই তত্ত্বের ভাবকল্পে গবড়া রাগে গীত এই চর্যাপদটি রচনা করেন:
কুক্কুরীপাদানাম্
রাগ–গবড়া
দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ।
রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই ॥
আঙ্গন ঘরপণ সুন ভো বিআতী।
কানেট চোরে নিল অধরাতী।।
সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগই।
কানেট চোরে নিল কা গই মাগই।।
দিবসহি বহুড়ী কাউহি ডর ভাই।
রাতি ভইলে কামরু জাই।।
অইসনী চর্য্যা কুক্কুরীপা এঁ গাইল।
কোড়ি মাঝেঁ একু হি অহি সমাইল।।
[ শব্দার্থ:দুলি = কাছিম, দুহি =দোহন করে,পীঢ়া = পাত্র/ ভাঁড়, ধরণ = ধারণ করা, রুখের = গাছের, তেন্তলি = তেঁতুল, কুম্ভীর= কুমীর, আঙ্গণ = প্রাঙ্গন/আঙ্গিনা, সুন = শোনো, ভো=ওহে, বিআতি = বাদ্যকরী, কানেট = কানের অলঙ্কার, অধরাতী = মধ্য রাত্রি, সসুরা =শ্বশুর, বহুড়ী = বধূ, মাগই = চাইবে, কাউ = কাক, ডর = ভয়, কামরু = কামরূপ, অইসনী = এইরকম, কোড়ি = কোটি, একু = একজন, সমাইল = বুঝতে পারলো।]
প্রাকৃত বাংলা ভাষায় লিখিত এই চর্যাপদ কে বিশুদ্ধ বাংলায় রূপান্তর করলে সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় :
মাদী কাছিমের দুধ দোহন করে ভাঁড়ে ধরে রাখা যাচ্ছে না। গাছের তেঁতুল কুমীরে খায়। ওগো বাদ্যকরী শোনো,
সাধন তত্ত্ব -৪
তিনি বজ্রের অগ্নির মত আলোকময়, জ্ঞান মুদ্রারূপী কুণ্ডল শোভিত হয়ে ঘুরে বেড়ান।
“তিন ধাতুর খাট পেতে শবর মহাসুখে শয্যা রচনা করলো” - তিন ধাতুর খাট বলতে এখানে কায়, মন ও বাক বুঝানো হয়েছে। কায়, মন ও বাক সংযম হলো সাধনার প্রথম ধাপ। জীবাত্মা রূপী শবরের সঙ্গে পরমাত্মা রূপী শবরীর মিলনের জন্য উপযুক্ত শয্যা চাই। তাই শবর কায়, মন ও বাক্য সংযমের খাট বা বেদীর উপর শিরঃস্থিত সহস্রদল মহাপদ্ম রূপী মহাসুখের শয্যা বিছালেন।
“শবর ভুজঙ্গ নৈরামণির সঙ্গে প্রেমের রাত্রি কাটালো” - শবর ও শবরী প্রেমের রাত্রি কাটালো, অর্থাৎ অবশেষে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন হলো।
“হৃদয়রূপী তাম্বুলে মহাসুখে কর্পুর খেলো,শূণ্যদেহ নৈরাত্মা কে গলায় জড়িয়ে মহা সুখে রাত কাটালো”- জীবাত্মা রুপী শবর পরমাত্মা রূপী শবরীর সঙ্গে সম্ভোগ চক্রে মিলিত হলেন, ফলে ব্রহ্মজ্ঞানানন্দতুল্য নির্বাণ সুখ ভোগ করলেন। এর পরে শবর হৃদয় রূপ তাম্বুলে মহাসুখ রূপী কর্পুর খেলেন,অর্থাৎ চিত্ত কে অচিত্ততায় লীন করলেন।
“গুরুবাক্যের ধনুকে নিজের মন কে বাণ বিদ্ধ করো। এক শর সন্ধানে বিদ্ধ করো পরম নির্বাণ কে”_- শবরপাদ জানাচ্ছেন গুরুর বাক্য রূপ ধনুকে সাধকের মন রূপী শর যোজনা করে নিক্ষেপ করায় একবার শর সন্ধানেই নির্বাণ কে বিদ্ধ করা গেছে, অর্থাৎ গুরু প্রদর্শিত পথে মন প্রাণ দিয়ে সাধনা করায় এক বারেই নির্বাণ সুখ লাভ হয়েছে।
“গিরিবর শিখর সন্ধিতে প্রবেশ করে উন্মত্ত শবর লড়বে কি ভাবে ?” - নির্বাণ লাভের পর সহজানন্দ পানে প্রমত্ত জীবাত্মা মস্তকে অবস্থিত মহাসুখ চক্রে এমন ভাবে প্রবিষ্ট হয়েছে যে তার আর বিষয় বিষে দুষ্ট ক্লেদাক্ত জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
কৃচ্ছ সাধনের দ্বারা নির্বাণ লাভ সম্ভব, তবে কৃচ্ছসাধনের জন্য যে শিক্ষা বা জ্ঞান প্রয়োজন,তার জন্য গুরু সঙ্গ আবশ্যক এবং গুরুকে জিজ্ঞাসা করেই মুক্তির উপায় জানতে হবে। লুইপাদ নামক এক বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য এই তত্ত্বের প্রচার কল্পে পটমঞ্জরী রাগে গীত এই চর্যাপদটি রচনা করেন:
লুই পাদানাম্
রাগ–পটমঞ্জরী
কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ।
লুই ভণই গুরু পুছ্ছিঅ জাণ।।
সঅল সমাহিঅ কাহি করিঅই।
সুখ দুখেতেঁ নিচিত মরিঅই।।
এড়ি এউ ছান্দক বান্ধ করণক পাটের আস।
সুনু পাখ ভিড়ি লাহু রে পাস।।
ভণই লুই আমহে ঝাণে দিঠা।
ধমণ চমণ বেণি পাণ্ডি বইঠা।।
[ শব্দার্থ:কাআ=দেহ/শরীর, তরুবর=বড় গাছ, পঞ্চবি=পাঁচটি, ডাল=শাখা, চীএ=চিত্তে,পইঠো=প্রবেশ করে, কাল= মৃত্যু রূপী দেবতা, দিঢ়=দৃঢ়/শক্ত, মহাসুহ=মহাসুখ, ভণই=বলেন,পুচ্ছিঅ=জিজ্ঞাসা করে, জাণ=জানো,সঅল= সর্বকাল, সমাহিঅ= একাগ্র ভাবে ধ্যান মগ্ন, কাহিকরিঅই= কি করিবে, নিচিত = নিশ্চিত/অবশ্যই, মরিঅই = মরিবে,এড়ি = এড়ানো/বর্জন করা, এউ=এই, ছান্দক= ছন্দের, বান্ধ = বন্ধন, করণক = ইন্দ্রিয়ের,পাটের আস = পারিপাট্যের আশা, সুনু পাখ = শূন্যপাখা, ভিড়ি=ভর করে, লাহু রে = লও রে,পাস = পাশে, আমহে = আমি, ঝাণে = ধ্যানে, দিঠা = দেখেছি, ধমণ চমণ = শ্বাস-প্রশ্বাস,বেণি –দুই রকম, পাণ্ডি = পিড়া, বইঠা = বসেছি।]
প্রাকৃত বাংলা ভাষায় লিখিত এই চর্যাপদ কে বিশুদ্ধ বাংলায় রূপান্তর করলে সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় :
মানুষের দেহ বৃক্ষের পাঁচ টি ডাল। চঞ্চল চিত্তে কালপ্রবেশ করে। মনকে দৃঢ় করে মহাসুখ পাও। লুই বলে -গুরু কে জিজ্ঞাসা করে সব জেনে নাও। সুখে বা দুঃখেতে মরণ যখন নিশ্চিত,তখন সব সময়ে তপস্যা করে কি হবে ? এই ছন্দের বন্ধন এবং ইন্দ্রিয়ের পারিপাট্য ছেড়ে শূণ্য পাখায় ভর করে তার কাছে যাও। লুই বলে আমি শ্বাস-প্রশ্বাসের পিড়ায় বসে ধ্যানে সব দেখেছি।
কিন্তু লুইপাদের এই চর্যাগীতি র ভাবগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মনকে নিয়ন্ত্রণ, ইন্দ্রিয় দমন এবং গুরু বাক্য অনুসারে চিত্তের সাধন দ্বারা যে নির্বাণ লাভ সম্ভব, সেই তত্ত্বই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
সাধন তত্ত্ব -৩
কিন্তু যোগ সাধনা বলে একে উর্ধ্বগামী করতে পারলে তা রূপান্তরিত হয় পারমার্থিক বোধি চিত্তে। এই পারমার্থিক বোধি চিত্তকেই চর্যাপদে নৈরামণি বলা হয়। চর্যাপদের আদি কবি শবরপাদ একটি চর্যাপদ রচনা করেন, যা তে এই নৈরামণির উল্লেখ আছে। আাপাতদৃষ্টিতে একে নর নারীর প্রেম ও মিলন চিত্র মনে হলেও, এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের মহাযান সাধন পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
শবরপাদানাম্
রাগ - বল্লাড্ডি
উঞ্চা উঞ্চা পাবত তঁহি বসই সবরী বালী।
মোরঙ্গি পীচ্ছ পরহিণ সবরী গীবত গুঞ্জরী মালী।।
উমত সবরো পাগল সবরো মা কর গুলী গুহারী।
তোহেরী ণিঅ ঘরণী ণামে সহজসুন্দরী।।
ণাণা তরুবর মৌলিল রে গঅণত লাগেলি ডালী।
একেলী সবরী এ বন হিণ্ডই কর্ণকুণ্ডল বজ্রধারী।।
তিঅ ধাউ খাট পড়িলা সবরো মহাসুহে সেজি ছাইলী।
সবরো ভুঅঙ্গ ণইরামণি দারী পেহ্ম রাতি পোহাইলী।।
হিআ তাঁবোলা মহাসুহে কাপুর খাই।
সুণ ণইরামণি কন্ঠে লইআ মহাসুহে রাতি পোহাই।
গুরুবাক ধনুআ বিন্ধ ণিঅ মণে বাণেঁ।
একে সরসন্ধাণেঁ বিন্ধহ বিন্ধহ পরম নিবাণেঁ।।
উমত সবরো গরুআ রোসে।
গিরিবর সিহর সন্ধি পইসন্তে সবরো লোড়িব কইসেঁ।।
[ শব্দার্থ : উঞ্চা উঞ্চা= উঁচু উঁচু,পাবত=পর্বত,তঁহি=তথায়,বসই=বাস করে, সবরী=শবরী,বালী=বালিকা,মোরঙ্গি পীচ্ছ = ময়ূর পুচ্ছ,পরহিণ = পরিধান করেছে, গীবত = গ্রীবায়/গলায়, গুঞ্জরী = গুঞ্জা/কুঁচ ফল, মালী = মালিকা, উমত = উন্মত্ত, সবরো = শবর, মা কর =করিস না, গুলী =গোলমাল, গুহারী = গুহা বাসী, তোহেরী= তোর, ণিঅ = নিজ, ণামে=নামে,ণাণা=নানা/বিভিন্ন, তরুবর =গাছ, মৌলিল=মুকুলিত হলো, গঅণত=গগনে/ আকাশে, লাগেলি=লাগলো/ ঠেকলো, ডালী=শাখা, একেলী=একা, হিণ্ডই=ঘুরে বেড়ায়, তিঅ=তিন, ধাউ=ধাতু,মহাসুহে=মহাসুখে,সেজি= শয্যা, ছাইলী=পাতলো/রচনা করলো, ভুঅঙ্গ=ভুজঙ্গ/নাগর, দারী = রমণী, পেহ্ম রাতি = প্রেমময় রাত্রি, হিআ=হিয়া/হৃদয়, তাঁবোলা= তাম্বুল / পান, কাপুর = কর্পূর, সুণ=শূণ্য, ণইরামণি = নৈরাত্মা, গুরুবাক=গুরুবাক্য, ধনুআ=ধনুক, বিন্ধ=বিদ্ধ করো, নিবাণেঁ= নির্বাণ কে, সিহর = শিখর, পইসন্তে = প্রবেশ করে, লোড়িব=লড়াই করিব ]
প্রাকৃত সন্ধ্যা ভাষায় লিখিত এই চর্যাপদ টি কে বিশুদ্ধ বাংলায় রূপান্তর করলে সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় :-
উঁচু উঁচু পর্বতের উপরে বাস করে শবরী বালিকা। শবরীর পরনে ময়ূর পুচ্ছ ও গলায় গুঞ্জার মালা। উন্মত্ত শবর,পাগল শবর গোলমাল ক’রো না। তোমার নিজ ঘরণী হ’লো সহজসুন্দরী। বিভিন্ন গাছপালা মুকুলিত হ’লো, তাদের ডালপালা গিয়ে ঠেকলো আকাশে। একলা কর্ণকুণ্ডল বজ্রধারী শবরী এ বনে ঘুরে বেড়ায়। তিন ধাতুর খাট পেতে শবর মহাসুখে শয্যা রচনা করলো। শবর ভুজঙ্গ নৈরামণির সঙ্গে প্রেমের রাত্রি কাটালো। হৃদয়রূপী তাম্বুলে মহাসুখে কর্পুর খেলো। শূণ্যদেহ নৈরাত্মা কে গলায় জড়িয়ে মহা সুখে রাত কাটালো। গুরু বাক্যের ধনুকে নিজের মন কে বাণ বিদ্ধ করো। এক শর সন্ধানে বিদ্ধ করো পরম নির্বাণ কে। গিরিবর শিখর সন্ধিতে প্রবেশ করে উন্মত্ত শবর লড়বে কি ভাবে ?
বৌদ্ধ সাধন পদ্ধতির আলোকে বিচার করে চর্যাপদটির বিশুদ্ধ বাংলা রূপান্তরের প্রতিটি ছত্রকে বিশ্লেষণ করে দেখানো হলো, যেন পাঠকেরা দ্বৈত অর্থ সম্বলিত চর্যাপদের স্থূল বাহ্যিক ও সূক্ষ্ম বৌদ্ধ সাধন তত্ত্বের মাধুর্য রস উপলব্ধি করতে পারেন।
“উঁচু উঁচু পর্বতের উপরে বাস করে শবরী বালিকা” -এই মানব দেহ যেন সুমেরু পর্বত,মস্তিস্ক হলো পর্বতের শিখর। সেই শিখরে বাস করে সহজানন্দ পানে প্রমত্ত শবরের সহজ সুন্দরী গৃহিণী নৈরামণি বা নৈরাত্মা দেবী। মস্তকে অবস্থিত পারমার্থিক বোধি চিত্তই হলো এই নৈরামণি। প্রণয়মূলক চিন্তা বা পাশব বৃত্তি থেকে যে যৌনশক্তি উত্থিত হয়,তাকে ঊর্ধ্ব দিকে মহা বিদ্যুত আধার মস্তিস্কে প্রেরণ করতে পারলে, সেখানে সঞ্চিত হয়ে যৌন শক্তি “ওজঃ” বা আধ্যাত্মিক শক্তিতে পরিণত হয় । মানব দেহের সমস্ত পাশব যৌন শক্তি ওজঃশক্তি তে পরিণত হয়ে গেলে মানুষ নির্বাণ লাভ করে ও মহাপুরষের পর্যায়ে উপনীত হয়।
“শবরীর পরনে ময়ূর পুচ্ছ ও গলায় গুঞ্জার মালা” - শবরী র একই অঙ্গে বিলাস বৈভব ও কৃচ্ছসাধন এই দুইটি প্রতীক নিত্য বর্তমান। বিলাসের ভাববিকল্প রূপ বর্ণময় ময়ূর পুচ্ছ ও কৃচ্ছসাধনের গুহ্য মন্ত্ররূপ হলো গুঞ্জার মালা।
“উন্মত্ত শবর,পাগল শবর গোলমাল ক’রো না। তোমার নিজ ঘরণীহ’লো সহজসুন্দরী” - বিষয় আনন্দে মত্ত শবর রূপী চিত্তকে সতর্ক করা হচ্ছে, যেন সে শবরীরূপী পারমার্থিক চিত্ত নৈরাত্মা কে চিনতে ভুল না করে। একমাত্র তার সঙ্গেই শবরের মিলন হওয়া উচিত।
“বিভিন্ন গাছপালা মুকুলিত হ’লো, তাদের ডালপালা গিয়ে ঠেকলো আকাশে। একলা কর্ণকুণ্ডল বজ্রধারী শবরী এ বনে ঘুরে বেড়ায়” - মানব দেহ রূপী সুমেরু পর্বতে অযত্নে কাম, ক্রোধ,মোহ, লালসা প্রভৃতি অবিদ্যা রূপ তরু মুকুলিত হয়েছে।তাদের শাখা প্রশাখায় মনের আকাশ অন্ধকার। তাদের ভেদ করে জ্ঞানের আলো প্রবেশ করতে পারছে না। সেই অন্ধকার কাননে নৈরাত্মা একাকিনী ঘুরে বেড়ায়। তাকে চেনার একমাত্র উপায়,